ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট
মানিকগঞ্জ -১ (ঘিওর-দৌলতপুর- শিবালয়) আসনে বিএনপি মনোনয়ন পেতে তিনজন হ্যাবিওয়েট প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু
রামপ্রসাদ সরকার দীপু স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর- শিবালয়) আসনে এখনও বিএনপি মনোনয়ন চুড়ান্ত হয়নি। এ আসনে মনোনয়ন পেতে তিনজন হ্যাবিওয়েট প্রার্থী আদাজল খেয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ভাবে গণসংযোগ, সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক, মোটর সাইকেল শোডাউনসহ পথ সভায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সালাম , আদাপ দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার প্রাণপন চেষ্ঠা করছেন তারা। কেন্দ্রীয় সিন্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মানিকগঞ্জে তিনটি আসনের মধ্যে ২টি আসনে প্রার্থী চুড়ান্ত হলেও এখনও ঝুলে আছে মানিকগঞ্জ -১ আসনের মনোনয়ন। তবে শেষ পর্যন্ত কে হবেন সেই ভাগ্যবান ব্যক্তি। এ নিয়ে তিনটি উপজেলার সাধারন ভোটার ও তৃনমূলের সকল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে । তবে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে জামায়েত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইউরো বাংলা হার্ট হাসপাতালের এমডি ডাঃ আবু বকর সিদ্দিক। তিনি এককভাবে তিনটি উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন।
বিএনপি ঘাটি হিসাবে পরিচিত মানিকগঞ্জ-১ মনোনয়ন পেলেই জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ । বিএনপি তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে দিবারাত্রি প্রচার প্রচারনার পাশাপাশি অনেকে আবার ঢাকা কেন্দ্রীয় অফিসে জোর লবিং ও তদবির শুরু করেছেন। এ আসনে বিএনপি প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন পাঁচবারের এমপি ছিলেন। ২০০৮ মনোনয়ন পান তিনি। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাম্মেল হক তোজা প্রতিদন্ধীতা করেন। এ কারনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইঞ্চিনিয়ার আনোয়ারুল হকের কাছে পরাজিত হন পাঁচবারের এমপি অ্যাডঃ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এর পর থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। আসনটি পুনরুদ্ধারে ২০১৮ নির্বাচনে জেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির কে মনোনয়ন দেয় বিএনপি । পরে অবশ্য মনোনয়ন বাতিল করে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আকবর হোসেন ডাবলুকে দেওয়া হয়। এ আসন থেকে নির্বাচিত হয় জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাঈমুর রহমান দুর্জয়।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের জ্যেষ্টপুত্র জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ তোজাম্মেল হক তোজা।
তবে শেষ পর্যন্ত কে নমিনেশন পাচ্ছে এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে। এ ছাড়া বিএনপি নমিনেশন পেতে অ্যাডঃ আমিনুল ইসলাম মাঠে রয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনিত প্রার্থী ডাঃ আবু বকর সিদ্দিক, পথসভা, মোটর সাইকেল শোডাউন, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন। অপর দিকে জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি) ওমর ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মনোনিত প্রার্থী মুফতী হেদায়েতুল্লাহ, গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুছাইন নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, ২০১৮ সালে আমি নমিনেশন পেয়েছিলাম কিন্তু ফ্যাসিষ্টরা উচ্চ আদালতে রিট করে আমার মনোনয়ন বাতিল করেন। পরে তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে কারাগারে পাঠায়। ফ্যাসিষ্টরা আমাকে ৩১টি মামলায় আসামী করে। আমি দলের নিযম কানুন আদর্শ মেনে তিনটি উপজেলাতে কাজ করছি। ১৬/১৭টি বছর তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে রাজনৈতিক সকল কর্মকান্ডে জড়িত আছি। দল যাকে নমিনেশন দেয় তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। তবে দলের নমিনেশন পেতে আমি শতভাগ আশাবাদী।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু বলেন,আমাদের মধ্যে কোন বিভক্তি নেই। প্রতিযোগিতা চলছে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে , আশাকরি তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঘিওর দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছি ।
বিএনপি আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ তোজাম্মেল হক তোজা বলেন,দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ দলের জন্য কাজ করছি। দলের কর্মসূচির পাশাপাশি তিনটি উপজেলার সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করছি নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার উন্নয়ন ও সার্বিক সমাধানে তাদের পাশে আছি। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে নমিনেশন দিলে আমি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হব।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ-১ আসন (ঘিওর -দৌলতপুর শিবালয়) রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও দলীয় সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহনযোগ্যতার ভারসাম্য বিবেচনায় শিগগিরই নমিনেশনের বিষয়টি মিটে যাবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের আমেজ ছড়িয়ে পরেছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। মানিকগঞ্জের দুর্গ হিসাবে পরিচিত তিনটি আসনে বিএনপি সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের কর্মকা্ড নিষিদ্ধ হবার পরে ভোটের মাঠে এখন সরব বিএনপির পাশাপাশি জামায়েতে ইসলামী ।
বিএনপির তৃনমূলের সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উৎসব উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনটি আসন থেকেই বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
Posted ৭:৫২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Desh24.News | Azad